অমানবিকতার দৃষ্টান্তমূলক নজির মালদা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের। ২০০৯-১০ সালের প্রাথমিক শিক্ষকপদের চাকুরী প্রার্থীদের অনশন মঞ্চে হাজিরই হলেন না প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান আশিষ কুন্ডু সহ জেলার আধিকারিকেরা। ফলে গত সাতদিন ধরে শিক্ষক পদের চাকুরীর প্যানেল প্রকাশের দাবী জানিয়ে অনশন করে চলেছেন প্রায় ১০০জন চাকুরীপ্রার্থী। আর এই কারনে অনশনরত চাকুরী প্রার্থীরা আজ মৃত্যুর পথযাত্রী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ে রয়েছেন জেলা প্রশাসনিক দপ্তরের সামনেই। এমন পরিস্থিতিতেও মানবিকতার হাত বাড়ায়নি জেলার কোন প্রশাসনিক কর্তা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি। আর নিজেদের আদরের ছেলেদের এমন পরিনিতি দেখে বুক চাপড় দিয়ে কেঁদে চলেছেন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা মা। হাইকোর্ট ২০০৯—১০ সালের প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগের ফল বের করার নির্দেশ দিয়েছে মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে। কিন্তু এই নির্দেশের পরও মালদা জেলা শিক্ষা সংসদ ফল প্রকাশ করছে না। বার বার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। বাধ্য হয়েও আমরন অনশনের পথ বেছে নিয়েছে কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা চাকুরী প্রার্থীরা। বিষয়টি জেলা শাসককে জানিয়েছে কিন্তু কোন হেলদোল নেই সাংসদের চেয়ারম্যান আশিষ কুন্ডুর। ফলে টানা সাতদিনের আমরন অনশনের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকজন চাকুরী প্রার্থী। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থা তিনজনের। স্যালাইন নিয়েই অনশন মঞ্চেই আন্দোলন করছেন তারা। আন্দোলনকারীদের এমন আন্দোলনের ফলে একে অপরের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি সিপিএম ও কংগ্রেস জোটবদ্ধ হয়ে এ জেলাতে আন্দোলনকারীদের পাশে দাড়িয়েছেন। তবুও হুঁশ নেই জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের।এমন নজিরহীন অমানবিকতা প্রশাসনিক কর্তাদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মালদা